শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক নুরুল হুদা স্থানীয় সাংবাদিকের মোবাইল ফোনটি আটক রাখার অভিযোগ কুমিল্লায় একটি বাড়ি থেকে ৬শত পিস ইয়াবাসহ একজন মাদককাবারি আটক কুমিল্লায় কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অজ্ঞান করে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করার অভিযোগে একজন আটক র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রধান আসামি রাজু নিহতঃ কুমিল্লায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈমের হত্যা মামলার আসামি ঈদকে সামনে রেখে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বেপরোয়া ভাবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের অভিযোগ কুমিল্লায় গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক কুমিল্লায় পৃথক র‌্যাবের অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী সাথে ৬ শত ফেন্সিডিল উদ্ধার কুমিল্লার ধুর্মপুর রেলওয়ে এলাকায় একপক্ষের হামলায় রবিন আহত কুমিল্লায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়ী আবু জাফর গ্রেফতার
নোটিশ :

কুমিল্লায় বেশিরভাগ মুদি দোকানে মিলছে জীবনরক্ষাকারী ঔষুধের অতিরিক্ত দাম রাখার অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম শিশির, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের আমতুলি এলাকায় বিভিন্ন মুদির দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ঔষুধের অতিরিক্ত দাম রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়।  সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিন দিন এর প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রাম বা মহল্লার দোকানগুলোতে এ ব্যবসা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। যেন দেখার কেউ নেই, ভাবার কেউ নেই।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় সবক’টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভেতরে কয়েক হাজার মুদি দোকানের মধ্যে অধিকাংশ দোকানে এ অবস্থা চলে আসছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল সরকারি হাসপাতাল, ৫৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৬টি সাব সেন্টার ৫০-৫৫টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং দুই হাজারেরও বেশি ঔষুধের দোকানসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থাকার পরও কেন এই সব জীবনরক্ষাকারী ওষুধ মুদির দোকানে বিক্রি হচ্ছে সেটির সঠিক উত্তর দিতে পারেনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো মহল। অথচ এসব দোকানে নেশা ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, দামি দামি এন্টিবায়োটিকসহ হাই প্রেসারের অনেক মূল্যবান ওষুধ তারা মজুত রেখে না বুঝেই বিক্রি করছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অসচেতন, নিরক্ষর ও নিম্নবিত্ত হওয়ার কারণে মুদি দোকানদাররা এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমালো সরকার মুদির দোকানের পাশাপাশি, এ চিত্র চা-দোকান, টং দোকান ও পানের দোকানেও পরিলক্ষিত হয়। ওষুধের পাশাপাশি সেসব দোকানে স্যানিটারি ন্যাপকিন, প্যাম্পাস ও ব্যান্ডেজ সামগ্রী, জন্ম নিয়ন্ত্রণের ট্যাবলেটসহ বেশকিছু পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে তারা এমআরপির ধার ধারে না। নিজেদের ইচ্ছামতো বিক্রি করে। আরো জানা যায়, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মধ্যে মুদি দোকানদাররা জ্বর, সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা, পেটের ব্যথা, মহিলাদের বিভিন্ন সমস্যা, বাতের ব্যথা ইত্যাদি রোগ থেকে শুরু করে কঠিন ও জটিল রোগের ওষুধও বিক্রি করে থাকেন। তাদের বিক্রির তালিকায় যেসব ওষুধ সাধারণত দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিপ্রোসিনফ্লক্সাসিন, এজিথ্রোমাইসিন, টাইমোনিয়াম, ডাইক্লোফেনাক, ড্রোটাভেরিন (নো-স্পা), প্যারাসিটামল, সিটিরিজিন, রেনিটিডিন, ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল, কিটোরোলাক, এসিক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন, ইটোরিকক্সিব, মেট্রোনিডাজল ইত্যাদি জেনেরিকে নামের বিভিন্ন গ্রুপের ওষুধ।এব্যাপারে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, অধিকাংশ মুদি দোকানে শুধুমাত্র জেনেরিকের ওষুধ পাওয়া যায় না। তারা অ্যান্টিবায়োটিক, হাই প্রেসার, ডায়াবেটিক, সরকারি ওষুধসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ বিক্রি করে থাকেন। পাশাপাশি যৌন উত্তেজক ওষুধও বিক্রি করেন। যেটা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। রোগীরা না জেনে তাদের থেকে ওষুধ কিনে। কুমিল্লা জেলা ড্রাগ এন্ড কেমিস্ট সমিতির নেতাকর্মীর বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য থাকায় পর মুদি দোকান এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছি না। তাছাড়া প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে বার বার অবহিত করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সমস্যার সমাধান কি করে করা যায় সে ব্যাপারে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অচিরেই সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবো। এতদিন আমরা ওষুধ ব্যবসায়ীরা জোরালো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



ফেসবুকে আমরা